২০২৫ সাল

দুবাইয়ের আবাসন বাজারে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

দুবাইয়ের আবাসন বাজারে ২০২৫ সালে রেকর্ড ৬৮ হাজার ১০০ কোটি দিরহাম বা ১৮ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ লেনদেন হয়েছে।

দুবাইয়ের আবাসন বাজারে ২০২৫ সালে রেকর্ড ৬৮ হাজার ১০০ কোটি দিরহাম বা ১৮ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ লেনদেন হয়েছে। মূলত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের প্রবণতা বাড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শহরটিতে আবাসন খাত উল্লেখযোগ্য একটি বছর পার করেছে। খাতসংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রভিডেন্ট এস্টেটের ২০২৫ সালের বাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

দুবাইয়ে গত বছর ২ লাখ ১৩ হাজার ৭০০টি আবাসন বিক্রি হয়েছে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এ সময় গড় বিক্রয়মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগের তুলনায় জীবনযাত্রার মান ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্যে সম্পত্তি কেনার প্রবণতা বেড়েছে। এতে দুবাইয়ের আবাসন বাজার কাঠামোগত ঊর্ধ্বমুখী ধারায় প্রবেশ করেছে।

প্রভিডেন্ট এস্টেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লোয়াই আল ফাকির বলেন, ‘দুবাইয়ের আবাসন খাত এখন আর সুযোগ খোঁজার ক্ষেত্র নয়। বরং এটি এখন স্থায়ী আবাসের জায়গায় পরিণত হয়েছে। মানুষ এখানে শুধু বিনিয়োগ করছে না। তারা এখানে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ছে। এ পরিবর্তন চাহিদার ধরন বদলে দিয়েছে এবং দুবাইকে বিশ্বের অন্যতম স্থিতিশীল আবাসন বাজারে পরিণত করেছে।’

২০২৫ সালে দুবাইয়ের জনসংখ্যা ৪০ লাখ ৩ হাজারে পৌঁছে। বছরটিতে অন্তত দুই লাখ আট হাজার মানুষ কাজ ও উন্নত জীবনযাত্রার খোঁজে ‘করস্বর্গ’ হিসেবে পরিচিত এ শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। ২০১৪ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আমিরাতে স্থানান্তর হয়েছেন।

প্রভিডেন্ট এস্টেটের তথ্য অনুযায়ী, আবাসন ক্রেতাদের মধ্যে প্রাধান্য বিস্তার করেছেন ৩১-৪৫ বছর বয়সীরা। এর মধ্যে ৩৬-৪০ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা করেছেন। মূলত উন্নত ক্যারিয়ার ও পারিবারিক স্থিতিশীলতার জন্য দুবাইয়ে দীর্ঘমেয়াদে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

গত বছর আবাসন চাহিদার মূলে ছিল অ্যাপার্টমেন্ট। বিশেষ করে জুমেইরাহ ভিলেজ সার্কেল, বিজনেস বে ও দুবাই মেরিনা এলাকায় চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। এক বেডরুমের ইউনিটগুলো সেকেন্ডারি ও অফ প্ল্যান উভয় বাজারে ভালো করেছে। এছাড়া পরিবার নিয়ে বসবাসের জন্য ভিলার চাহিদাও ছিল ব্যাপক। ওয়াদি আল সাফা ও দুবাই সাউথ এলাকায় চার বেডরুমের ভিলার বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে দুবাইয়ে যুক্ত হতে পারে আরো ৯৬ হাজার ৫০০টি নতুন আবাসিক ইউনিট। এতে মূল ভূমিকা রাখবে দুবাই ক্রিক হারবার, দুবাই হিলস এস্টেট ও ডামাক ল্যাগুনের মতো পরিকল্পিত এলাকাগুলো। এছাড়া ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নির্মিত হবে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি আবাসন ইউনিট।

আরও